মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৭ অপরাহ্ন

সেবা বিলিয়ে দেশ বিদেশে সুনাম কুড়াচ্ছে ‘মুফজ্জিল আলী ফ্রি মেডিকেল সেন্টার

সেবা বিলিয়ে দেশ বিদেশে সুনাম কুড়াচ্ছে ‘মুফজ্জিল আলী ফ্রি মেডিকেল সেন্টার

সেবা বিলিয়ে দেশ বিদেশে সুনাম কুড়াচ্ছে 'মুফজ্জিল আলী ফ্রি মেডিকেল সেন্টার

মো. আব্দুল মান্নান : উচিৎ মূল্য দিয়েও যখন মিলছে না কাঙ্খিত সেবা ঠিক তখন ফ্রি সেবা বিলিয়ে দেশ বিদেশে সুনাম কুড়াচ্ছে সিলেটের মুফজ্জিল আলী প্রাইমারি ফ্রি মেডিকেল সেন্টার। মুফজ্জিল আলী প্রাইমারি ফ্রি মেডিকেল সেন্টার সদা আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের নাম। সেবার মনমানসিকতা নিয়ে কাজ করার মত লোকের অভাব এখন সর্বত্র।

সমাজে যারা সেবার নাম নিয়ে কাজ করছেন তাদের অনেকের মধ্যেই দেখা দিয়েছে ভেজাল। অধিকাংশই প্রকৃত সেবক নন বরং ধান্দাবাজ। চিকিৎসা পেশাটাকে সবাই সেবামূলক পেশাই মনে করেন কিন্তু এর বর্তমান অবস্থা কি? চিকিৎসকরা কি প্রকৃত সেবা দিচ্ছেন? তাদের অনেকেই এখন সেবার জায়গাটাতে নেই। এ থেকে সরে গেছেন।

ভাঁওতাবাজি করছেন। সেবার নামে অতিরিক্ত টেস্ট দিয়ে ও ভিজিট নিয়ে সাধারণ রোগীদের হয়রানি ও হেনস্তাসহ যেন জবাই করছেন তারা। যে কারণে মানুষের নিকট তাদের একটি বিশেষ অংশ এখন কসাই উপাধি লাভ করেছেন। মানুষ এখন আর তাদেরকে সেবক মনে করে না। হাতেগুনা দুই চারজন ছাড়া বাকিদেরকে কসাই মনে করে।

জনপ্রতিনিধিদের বেলায়ও একই অবস্থা। অল্পসংখ্যক ব্যতিত তাদের বিশাল একটি অংশও এই কসাইখানার সদস্য। ওরাও সেবার নাম করে মাঠে নেমে মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে এতিম অসহায়, গরিব দুঃখি, বৃদ্ধ বিধবা ও প্রতিবন্ধী মানুষের টাকা আত্মসাৎ করছেন।

বিচার শালিসের নামে অসহায় নীরিহ মানুষের নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। এছাড়া রাস্তা ঘাট, মসজিদ মাদরাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ব্রিজ কালভার্টের জন্য সরকার থেকে আসা কোটি কোটি টাকা মেরে খাচ্ছেন তারা।

জনগণের কাঙ্খিত সেবা হাতেগুনা দুয়েকজন ছাড়া সঠিকভাবে কেউ দিতে পারছেন না। এহেন পরিস্থিতিতে সিলেটের গোলাপগঞ্জের বহরগ্রাম মাঝরবাড়ির কৃতি সন্তান মোঃ আব্দুল ওয়াদূদ মাঠে নেমেছেন সেবা বিলাতে। অত্যন্ত মানবিক ও দারাজ দিলের অধিকারী একজন মানুষ তিনি। তিনি যুক্তরাজ্যে বসে দেশের গরিব দুঃখি ও অসহায় মানুষের কথা ভাবেন।

যারা অর্থাভাবে স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা সেবা থেকে বঞ্চিত তাদের কথা ভেবে ২০০৯ সনের ১০ জানুয়ারি তিনি তার বাবা মুফজ্জিল আলীর নামে ‘মুফজ্জিল আলী প্রাইমারী ফ্রি মেডিকেল সেন্টার’ নামে একটি সেবা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। নিজ গ্রামের অর্থাৎ বহরগ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর পাড়ে পাকা সড়ক ঘেঁষে মুফজ্জিল আলী মার্কেট সংলগ্ন স্থানে নিজস্ব জমিতে তিনি গড়ে তোলেন এ সেবা প্রতিষ্ঠান।

প্রতিনিয়ত আশপাশসহ দূরদূরান্ত এলাকা থেকে মানুষ এসে সেবা নিচ্ছেন এখান থেকে। এতে রয়েছে একটি প্রশাসনিক ভবন। এর মাধ্যমে তিনি মানুষকে চিকিৎসা সেবাসহ অকাতরে বিলিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন সেবাসমূহ। নিজস্ব খরচে অভিজ্ঞ ও উন্নত মানের ডাক্তার দিয়ে এখান থেকে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়।

শুধু তাই নয়, গর্ভবতী মা’দের চেকআপ, ডায়াবেটিস চেকআপ, পরামর্শ ও মনিটরিং, এমনকি তাদের মাঝে ফ্রি ঔষধ সামগ্রীও বিতরণ করা হয়। গরিব ছাত্র ছাত্রীদেরকে শিক্ষা সামগ্রী ও ড্রেস দেওয়া হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দিবস উদযাপন করা হয়। গৃহহীনদের জন্য তারা হাতে নিয়েছেন গৃহ নির্মাণ প্রকল্প। বয়স্কদের জন্য মাসিক বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে মাসিক প্রতিবন্ধী ভাতাসহ ২০টি প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সেবা বিলিয়ে যাচ্ছে মুফজ্জিল আলী প্রাইমারী ফ্রি মেডিকেল সেন্টার।

বিভিন্ন দুর্যোগের সময় ত্রাণ বিতরণ ও শীতকালে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা সেবা আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শুধু তাই নয় অনেক বেকারের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে এর মাধ্যমে। রাশিদা খানম নামে এ সেন্টারের একজন কর্মচারী বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। এখান থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। সরকারি চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে এগিয়ে দিয়েছে।

আমি এর সার্বিক মঙ্গল কামনা করি। সরেজমিন পরিদর্শন করে ও স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। প্রতিবেদন তৈরি করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার, ফুলপুর পৌরসভার কাজিয়াকান্দা ইন্দিরাপাড়ে অবস্থিত দারুল ইহসান কাসিমিয়া এক্সিলেন্ট মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মো. আব্দুল মান্নান। কথা হয় বহর গ্রামের আলিম উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, প্রতি রমজানে এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রোজাদারদের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

ঈদকে সামনে রেখে তারা গরিবদের মাঝে নতুন জামা কাপড় দান করেন। এছাড়া চাল, ডাল, চিনি সেমাই, তেল সাবান, পেয়াজ, মরিচসহ গরিব মিসকিনদের ঘরে ঘরে ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতি মাসেই বিভিন্ন খাদ্য বিতরণ করা হয়।

এছাড়া মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদেরকে শিক্ষা বৃত্তি এবং উচ্চ শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের তথ্য প্রদান করা হয়। বিনিময়ে তারা কিছুই নেন না এবং চান না। চান শুধু মানুষের দোয়া স্নেহ ও ভালোবাসা। এরকম নিঃস্বার্থভাবে কাজ করায় দেশ বিদেশে তাদের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। বহর গ্রামের মুরুব্বি যুক্তরাজ্য প্রবাসী ছয়ফুল ইসলাম গত কদিন আগে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন এবং এর কার্যক্রম দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

এ প্রতিষ্ঠানের আইন প্রণেতা ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডের সিলেট শাখা ও আঞ্চলিক প্রধান দেবজ্যোতি মজুমদার বলেন, আমি এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে, এটি আব্দুল ওয়াদূদ সাহেবের জীবনের একটি শ্রেষ্ঠ কীর্তি। এটা তার নাজাতের একটি উসীলা হতে পারে। তাকে অনুসরণ করে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা উচিৎ। উচিৎ নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে সমাজ উন্নয়ন কাজে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখা।

এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুক্তরাজ্য প্রবাসী মোঃ আব্দুল ওয়াদূদের সাথে হোয়াটসঅ্যাপে ও ভিডিও কলে কথা হয়। তিনি জানান, এর মাধ্যমে তিনি অনেক সম্মান, অনেক শ্রদ্ধা ও মানুষের ভালবাসা পেয়েছেন। পেয়েছেন বহু সনদ, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সংবর্ধনা। এজন্য তিনি মহান আল্লাহর নিকট শোকরিয়া জ্ঞাপন করেন। জানা যায়, তিনি তার কষ্টার্জিত অর্থ ও তার পরিবারের সদস্যদের আয় ইনকাম থেকে একটি বিশেষ অংশ এ ফান্ডে দান করেন এবং তা দিয়ে সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেন।

এ প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগের প্রধান লন্ডনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পল লেস্টার বলেন, মানুষের জন্ম শুধু নিজে ভাল থাকার জন্য নয় বরং আশপাশে যারা আছেন তাদের সবাইকে নিয়ে ভাল থাকা; তাদের জীবনকেও স্বার্থক করে তোলা। আব্দুল ওয়াদূদ এবং আমি সেই চিন্তারই মানুষ। আব্দুল ওয়াদূদের এ মহৎ কাজের সাথে যুক্ত থাকতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি।

মুফজ্জিল আলী প্রাইমারি ফ্রি মেডিকেল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক বহর গ্রামের কৃতি সন্তান বাংলাদেশের জন্য গৌরব করার মত ব্যক্তিত্ব মোঃ আব্দুল ওয়াদূদ এ প্রতিবেদককে বলেন, এ প্রতিষ্ঠান আমার কলিজার টুকরা। আমার জীবনের প্রতিটি রক্তকণার সাথে মিশে আছে এর অস্তিত্ব। এটা ছাড়া আমি আর কিছু ভাবতে পারি না।

যুক্তরাজ্যে পড়ে থাকলেও মন আমার সবসময় মুফজ্জিল আলী প্রাইমারি ফ্রি মেডিকেল সেন্টারেই পড়ে থাকে। যুক্তরাজ্যে আমার অফিস আছে। অফিসে বসে সবসময় ভাবি, কাজ করি, পরিকল্পনা করি, ছক আঁকি কিভাবে উত্তরোত্তর এর উন্নতি করা যায়। মানুষকে বিনামূল্যে আরও কি ধরনের সেবা দেওয়া যায় এসব ভাবনা নিয়েই আমার সময় কাটে।

কেন তিনি নিজেকে এ কাজে জড়ালেন জানতে চাইলে বলেন, মানবিক গুণ সম্পন্ন মানুষ হওয়ার প্রবল আকাঙ্খা ছিল ছোটবেলা থেকেই। সেই আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতেই আমার এই মানবসেবায় পদচারণা। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে প্রতিনিয়ত পিতার দেখানো পথে চলি। এরই মাঝে পরম করুণাময় আল্লাহর অশেষ রহমত আমাকে এই আধ্যাত্মিক সুখের ঠিকানায় পৌঁছে দিয়েছে।

সরল ও দরিদ্র মানুষের হাসি কান্না আমাকে আন্দোলিত করে। নিজের আবেগ প্রকাশ এবং প্রয়াস সাফল্যময় করার নিমিত্তে নিজ অর্থের সফল পরিচালনায় চালিয়ে যাচ্ছি আমাদের এই দাতব্য প্রতিষ্ঠান। আশা করি এর কর্মযজ্ঞ আরো বিস্তৃত হবে। আমার মননে আরো সুখানুভূতি বিরাজ করবে। আমি নিবেদিত প্রাণ হয়ে মানবিক কাজে প্রতিনিয়ত নিজেকে জড়িয়ে রাখি। স্বার্থক সমাজব্যবস্থায় এই প্রতিষ্ঠান সকলের মনের মনিকোঠায় ও উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত হোক, সকল ভালো কাজে সদর্পে উহা অগ্রসর হোক, সবার কাছে এটাই আমার বিনীত প্রার্থনা।

তিনি আরও বলেন, আমরা সাময়িক সময়ের জন্য এই পৃথিবীতে আসি। এখন আছি, কদিন পর থাকবো না। তাই পূর্বসুরীর মুখ উজ্জ্বল করে উত্তরসুরীদেরকে মানবিক কাজে প্রেরণা যুগিয়ে এর মাধ্যমে অমরত্ব লাভের ক্ষীণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এ অমরত্ব লাভ শুধু আমার নয় বরং হোক সকলের প্রত্যাশা।

তিনি আরও বলেন, এ কাজ আমি করে যাচ্ছি আল্লাহর ওয়াস্তে, সাওয়াবের নিয়তে। এর বিনিময়ে মানুষের নিকট আমরা কিচ্ছু চাই না। বিনিময় একমাত্র আল্লাহ তায়ালাই দিবেন। দেশবাসীর নিকট আমার মা-বাবা ও আত্মীয় স্বজনসহ সকলের জন্য দোয়া চাই। চাই এ প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট বুদ্ধি পরামর্শ। সেন্টারের ওয়েব সাইড (www.m-ali-medicalcentre.com) ভিজিট করার জন্য পাাঠকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

পরামর্শ ও মতামত সেন্টারের পথ চলার অনুপ্রেরণা। কাজেই এই ই-মেইলে : Free@m-ali-medicalcentre.com পরামর্শ দিন এবং সবসময় আমাদের পাশেই থাকুন

শেয়ার করুন

Comments are closed.




দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ © All rights reserved © 2025 Protidiner Kagoj |